মরু আরব এবং জমজম কুপের গুরুত্ব

 

ভূমিকা 

জুডিও খ্রিস্ট ধর্মের মতই ইসলাম ধর্মের সাথে সেই শুরু থেকেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পৌত্তলিকতার নানান প্রথা। ইসলাম ধর্মটি সত্যিকার অর্থে পৌত্তলিকতা, ইহুদি-খ্রিস্টান-সাবেইন-জরাথুস্ট্রবাদের একটি সংমিশ্রণ। মুহাম্মদ তার জীবনে বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপকথা শুনেছেন। তিনি যেসব ধর্মের মানুষদের সংস্পর্শে এসেছেন, দেখেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু অংশ তিনি হয়তো সত্য বলে মনে করেছেন, অথবা তার মনে যে কথাগুলো খুব প্রভাব বিস্তার করেছে, পরবর্তীতে সেগুলো তিনি নিজ ধর্মে গ্রহণ করেছেন। এই লেখাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে এটি প্রমাণ করা যে, নবী মুহাম্মদ তার নতুন ধর্মের প্রায় সকল নিয়মকানুনই সেই সময়ে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্ম থেকে গ্রহণ করেছেন এবং নিজের মত করে কিছুটা সংশোধন করে নিয়েছেন। সেইসাথে এটিও প্রমাণ করা যে, ইসলামের দাবী অনুসারে বাদবাকি সকল ধর্মই পৌত্তলিকতা দ্বারা দূষিত হয়েছে, শুধুমাত্র ইসলামই পৌত্তলিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত, এই দাবীকে ভুল প্রমাণ করা। পড়ার সময় মনে রাখতে হবে, ইসলাম সত্য নাকি মিথ্যা ধর্ম, সেটি এই লেখাটির আলোচ্য বিষয় নয়।

ইসলামপন্থী বিখ্যাত আলেমগণ সেইসব পৌত্তলিক প্রথাগুলোকেই ইসলামের সাথে সম্পর্কিত করার জন্য সেইসব প্রথাগুলোকে ইব্রাহীমের দ্বীন হিসেবে উল্লেখ করেন, সেগুলোকে মুসলিমদের সংস্কৃতি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন বটে। কিন্তু একটু ভালভাবে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, সেগুলো আসলে পৌত্তলিক প্রথাই। ইসলাম পৌত্তলিকতার যেভাবে কঠিন বিরোধীতা করে, ক্ষেত্রবিশেষে আবার ইসলামিক আলেমগণই ইসলামে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত পৌত্তলিক নানা প্রথার পক্ষে সাফাই গায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরে চুম্বনের বিষয়টি। কিংবা শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর মারার বিষয়টি। একটি পাথরের কোন ক্ষমতা থাকতে পারে না। তার কোন পাথরকে চুমু দিয়ে পাপ মোচন করা যাবে, এরকম ধারণা প্রাচীন পৌত্তলিক ধারণাই। শিবের লিঙ্গ নামক পাথরের মূর্তিকে হিন্দুরা শত বছর ধরে পুজা করে আসছে, কিন্তু শিবের লিঙ্গের নামে কোন পাথরের কোন ক্ষমতা থাকতে পারে না। সেই জ্ঞানবুদ্ধিহীন, প্রাণহীন কোন পাথরকে সম্মান করাও কোন মানুষের জন্য সম্মানজনক হতে পারে না। মূর্তিপুজার বিরুদ্ধে মুসলিমরা এই যুক্তিই দিয়ে থাকেন। কিন্তু একইসাথে কালো পাথরকে শ্রদ্ধা ভক্তি সহকারে চুমু দেন, পরকালে সেই পাথর তাদের পক্ষে সাক্ষী দেবে এই আশায়। এর অর্থ, তারাও আসলে পাথরকে খুশি রাখতেই চায়। আবার, শয়তানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপও তো পৌত্তলিকতাই। কোন স্তম্ভকে শ্রদ্ধা সহকারে ভক্তি কিংবা প্রতীক হিসেবে ঘৃণা করা, পাথর ছুড়ে মারা, এগুলো তো আসলে একই বিষয়। মূল বিষয়টি হচ্ছে, অলৌকিক সত্ত্বার প্রতীক তৈরি করা এবং সেটিকে ভক্তি বা ঘৃণা করা। যদিও মুসলিমগণ পৌত্তলিকতার এইসব স্পষ্ট উদাহরণ স্বীকার করবেন না। ইসলামপন্থীগণ সেগুলো বিশ্বাস করে এখনো পালন করেন, লালন করেন, এবং এগুলোর সপক্ষে কথা বলেন। কিন্তু একই সাথে তারাই আবার অন্য ধর্মের পৌত্তলিকতার চরম বিরোধীতাও করেন। এই লেখাটির উদ্দেশ্য তা নিয়ে বিতর্ক করা নয়। কারণ যত প্রমাণই থাকুক, সেগুলো ইসলামপন্থীগণ মেনে নেবেন না সেটি জানা কথা। তবে ইসলামের পৌত্তলিক ভিত্তিকে জানা, বোঝা এবং পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আশাকরি আগ্রহী পাঠকগণ মন দিয়ে লেখাটি পড়বেন, রেফারেন্সগুলো ক্রস চেক করবেন এবং নিজেরাই যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে চিন্তাভাবনা করবে।

পৌত্তলিক শব্দটি লাতিন ‘‘প্যাগানাস’’ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘‘ক্ষেত্র বা গ্রামের বাসিন্দা’’। খ্রিস্টানগণ ধর্ম প্রচারের সময় গ্রাম্য বা যারা শহরের অন্তর্ভূক্ত নয় তাদেরকে প্যাগান হিসেবে বিবেচনা করতো এবং তাদের বর্বর বলে প্রচার করতো। এটি পৌত্তলিকতার পুরনো সংজ্ঞা, বর্তমানে পৌত্তলিকতার সংজ্ঞা একটু ভিন্ন। জড় পদার্থকে বিশেষ করে পাথর বা ছবি বা স্তম্ভ বা এরকম যেকোন কিছুকেই কোন ব্যক্তি বা ঈশ্বর বা দেবদেবী বা শুভ অশুভ চরিত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা সেইসবকে শ্রদ্ধা ভক্তি কিংবা ঘৃণা প্রদর্শন, এরকম যাবতীয় কাজকেই পৌত্তলিকতা বলা হয়। যেমন কেউ যদি রবীন্দ্রনাথের মূর্তি বা প্রতীক বা প্রতীমা তৈরি করে সেই মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে, সেটিও যেমন পৌত্তলিকতা, একইভাবে কেউ যদি ঘৃণার প্রকাশ করতে কারো কুশপুত্তলিকা তৈরি করে সেটিকে জুতাপেটা করে, বা সেটিকে আগুনে পোড়ায়, সেটিও পৌত্তলিকতার অন্তর্ভূক্ত।


প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের মতই মক্কায় গোত্র গোত্র মারামারি, যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই ছিল। আরব বেদুইনরা যুদ্ধবাজ জাতি, তারা একে অন্যের সাথে যুদ্ধ না করে বেশিদিন থাকতে পারতো না। ছোটখাটো ব্যাপার, বংশমর্যাদা রক্ষা কিংবা খুনের বদলে খুন, এই নিয়ে তারা একে অপরকে হত্যা করতো। স্বাভাবিকভাবেই, মরুভূমি অঞ্চলে যুদ্ধবিগ্রহের সময় যুদ্ধরত দুপক্ষেরই পানির দরকার হয়ে পড়তো। তাই গোত্রগুলো নিজ নিজ স্বার্থেই মরুভূমির গুরুত্বপূর্ণ কুপগুলোকে যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখতো। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলেই এরকম উদাহরণ রয়েছে। তাদের মধ্যে এক অলিখিত চুক্তি ছিল এমন যে, দুই পক্ষ যতই মারামারি করুক, হত্যা লুণ্ঠন করুক না কেন, কুপের পানি থাকবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। কুপের কাছে কেউ পানি খেতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের আক্রমণ করবে না। কিছু কিছু মরূদ্যানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়াই ছিল নিষিদ্ধ। মরূদ্যানগুলোতে সাধারণত গোত্রগুলো তাদের স্ত্রী এবং শিশু পুত্রকন্যাদের লুকিয়ে রাখতো, সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গচ্ছিত রাখতো মরূদ্যান গুলোর দায়িত্বে যারা থাকে তাদের কাছে। তাই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মরূদ্যানগুলো অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু তাদের মধ্যে খুব বেশি বর্বর বেদুইন গোত্রগুলো এই নিয়মও মানতে চাইতো না। তাদের মধ্যে লোভের জন্ম হচ্ছিল, মরূদ্যানগুলোতে গচ্ছিত মূল্যবান সামগ্রীগুলোর জন্য। মাঝে মাঝেই দেখা যেত, যুদ্ধরত অবস্থায় একপক্ষ পানিপানের জন্য মরূদ্যানে গিয়েছে, প্রতিপক্ষ সেখানে গিয়েই তাদের কচুকাটা করে আসছে। লুটপাট করে বিপক্ষ দলের নারীদের ধরে নিয়ে এসেছে। তাই সবগুলো গোত্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু অঞ্চলের প্রয়োজন হলো, সেই স্থানগুলো যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখা। কেউ সেখানে আক্রমণ করবে না এবং প্রয়োজন হলে সেখানে স্ত্রী কন্যা এবং সম্পদ অন্তত লুকিয়ে রাখা যাবে। তাই সেই মরূদ্যানগুলোর ওপর ধীরে ধীরে ধর্মীয় মাহাত্ম্য আরোপ করা শুরু হলো। মরূদ্যানগুলোতে বিভিন্ন গোত্রগুলোর, যুদ্ধরত প্রতিটি পক্ষের প্রধান দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন শুরু হলো, তাদের প্রতিনিধিত্ব এবং অংশীদারিত্ব কায়েম করা হলো। যেন অন্তত সেই দেবদেবীর মূর্তির সম্মান রক্ষার্থে একপক্ষ আরেকপক্ষের ওপর অন্তত মরূদ্যানে আক্রমণ না করে। কারণ প্রায় প্রতিটি গোত্রই সেখানে তাদের প্রধান দেবতার মূর্তি বসিয়ে রাখতো। সেটা ছিল আসলে গোত্রগুলোর মধ্যে এক ধরণের রাজনৈতিক চুক্তি, যা ধর্ম ও ঈশ্বরের ভয় দ্বারা শক্তিশালী করা হয়েছিল। খেয়াল করলে দেখবেন, এই যুদ্ধবাজ বর্বর অঞ্চলগুলোর দেবদেবী কিংবা ঈশ্বরগুলো সর্বদাই ভীতি সৃষ্টিকারী। কারণ ভয় দেখানো এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। আর সেই সব মরূদ্যানগুলোকে বলা হতো নিষিদ্ধ অঞ্চল, অর্থাৎ এই অঞ্চলে রক্তপাত নিষেধ। যেন সেই দেবতার মূর্তির সম্মান রেখে অন্তত মরূদ্যানে দুই পক্ষের নেতারা বসে শান্তির আলোচনা চালাতে পারে।

মক্কার যমযম কুপ সেই আমল থেকেই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল, সেটা ছিল একইসাথে একটি সাধারণমানের বাণিজ্য রুট যেখানে বাণিজ্য কাফেলাগুলো পানি পান করতে আসতো। আরবের অধিকাংশ গোত্রের প্রয়োজন ছিল একটি মুক্তাঞ্চল, যেখানে তারা প্রতিটি পক্ষের সাথে শান্তি আলোচনা, বিভিন্ন গোত্রের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেনের চুক্তি করতে পারবে। কিন্তু আরবের একগোত্র তো অন্যগোত্রের মাতবরি মানবে না। তাহলে উপায় কী? উপায় ছিল এটাই যে, কাবায় প্রতিটি গোত্রের পূজনীয় প্রধান মূর্তিটিকে স্থাপন, প্রতিনিধিত্ব এবং অংশিদারিত্ব। সেখানে প্রধান মূর্তি থাকলে এবং সে যথাযোগ্য সম্মানের সাথে পূজিত হলে বিভিন্ন গোত্রের এক ধরণের অধিকারবোধের জন্ম নেয়, তারা কাবাকে নিজেদের অংশ ভাবতে শুরু করে। ধর্মীয়ভাবে সমান অংশিদারিত্ব থাকলে শান্তি আলোচনা, অর্থনৈতিক আলোচনা ইত্যাদি সেসময়ে ফলপ্রসূ হয়ে উঠতো। তাই কাবা হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক দিয়ে সেই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মূর্তিগুলো ছিল এক একটি গোত্রের সম্মানের প্রতীক, কাবায় এক একটি ছোট ছোট সংস্কৃতির প্রতিনিধি। উপরের আলোচনাগুলো সবই সেইসময়ের অবস্থা এবং ইতিহাস পর্যালোচনা করার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ধারণা। এর কোন তথ্যপ্রমাণ সেভাবে দেয়া সম্ভব নয়, তবে যৌক্তিকভাবে ভাবলে এরকমই হওয়াই স্বাভাবিক মনে হয়।

যমযম কুপ এবং কাবাও একই কারণে আরবের অন্যান্য মরূদ্যান এবং উপাসনালয়গুলর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত ছিল। সীরাত থেকে জানা যায়, মুহাম্মদের পৌত্তলিক দাদা আবদুল মুত্তালিবই যমযম কুপ খনন করেছিলেন এবং যমযম কুপের গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার উদ্দেশ্যে বিবি হাজেরা এবং ইসমাইলের গল্পটি যমযম কুপের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন। যদিও মুহাম্মদের মক্কা বিজয়ের পরে যমযম কুপের ওপর অমুসলিমদের আর কোন অধিকার থাকেনি, এটি শুধুমাত্র মুসলমানদের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল। যা আবদুল মুত্তালিবের চিন্তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আবদুল মুত্তালিব যে পৌত্তলিক ছিলেন, তার প্রমাণ পরবর্তীতে দেয়া হবে [1]





মুহাম্মদের কৈশোর 

মুসলিমদের মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত গল্প হচ্ছে, মুহাম্মদ যৌবনে কাবার হাজরে আসওয়াদ পাথরের স্থানান্তরণ নিয়ে একটি প্রায় বেঁঁধে যাওয়া যুদ্ধ থামিয়েছিলেন নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, হিলফুল ফুজুল নামক সংগঠন তৈরির মাধ্যমে। সেই বিষয়ে একটু পরেই আলোচনা হবে। সেসময়েই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন কাবার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব। মূলত সেই সময় থেকেই তার মাথায় এই চিন্তার উদ্ভব হয়, যে গোত্রগুলোর মধ্যে এক ধরণের ভ্রাতৃত্ববোধ কায়েম করতে পারলে আরব ভূমিতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গঠন করা সম্ভব। কিন্তু গোত্রগুলো একে অপরের শত্রু থাকার কারণে অন্যান্য শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলো সহজেই তাদের কাবু করতে পারতো। মুহাম্মদের আগে থেকেই এই ধরণের কিছু চেষ্টা হয়েছিল, যেন পুরো আরব ভূমিকে একই সাম্রাজ্যের অধীনে নিয়ে আসা যায়। এমনটি ঘটা খুবই স্বাভাবিক যে, মুহাম্মদও সেই সময়ে স্বপ্ন দেখতে লাগলো, একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর। একটি সাম্রাজ্যের। তাই একসময়ে মুসলমানগণ জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়লেও তিনি পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে কাবার দিকে মুখ করে নামাজের নিয়ম প্রবর্তন করেন। এবং পৌত্তলিকরা যেভাবে কাবাকে ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছিল, তিনিও একই কায়দায় কল্পিত কিছু উপকথাকে প্রয়োজনমত সংযোজন বিয়োজন করে কাবার ওপর মুসলমানদের দখলদারিত্ব আরোপ করেন। যদিও কাবা পরিষ্কারভাবেই পৌত্তলিকদের উপাসনালয় ছিল। হাদিস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদ অসংখ্য দেবদেবীর মূর্তিতে পরিপূর্ণ পৌত্তলিকদের তীর্থস্থান কাবার নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছিল।

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩/ হায়েয
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সতর ঢাকার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা
৬৬৪। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মায়মূন, ইসহাক ইবন মানসুর ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি’ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কাবা নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্বাস (রাঃ) পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আব্বাস (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, পাথর বহনের সুবিধার্থে তোমার লুঙ্গি কাঁধের ওপর তুলে নাও। এরপর তিনি এরুপ করলেন। সাথে সাথেই তিনি (বেহুশ হয়ে) মাটিতে পড়ে গেলেন। আর তার উভয় চোখ আকাশের দিকে নিবদ্ধ হল। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, আমার লুঙ্গি! আমার লুঙ্গি! এর পর তার লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। ইবনু রাফি তাঁর রিওয়ায়েতে কাঁধের স্থলে ঘাড়ের উল্লেখ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

コメント